হযরত ইউসুফ আ. ও কি তাহলে দুনিয়াপূজারী ছিলেন?(নাউজুবিল্লাহ)

Published June 3, 2012 by islamvalley

বর্তমানে অনেক মুসলিম ভাইকে বলতে শোনা যায় জামায়াতে ইসলামী ইসলামের নাম করে দুনিয়াবী স্বার্থ হাসিলের ধান্দায় আছে। (আর এ জন্যেই বিএনপির সাথে ঐক্য করে মন্ত্রণালয়ের ভার নিয়েছে।) তা না হলে ইসলামে রাজনীতি, বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ ইত্যাদির কী দরকার? মুসলিমদের ওসব যামেলায় না গিয়ে ব্যক্তিগত ধর্মকর্ম নিয়ে ব্যাস্ত থাকা উচিত।
এর জবাব আমার আমার আবিষ্কার করতে হয়নি। কুরআনই মুমিনের কর্মপন্থা বলে দিচ্ছে। দেখুন সুরা ইউসুফ।
وَقَالَ ٱلْمَلِكُ ٱئْتُونِى بِهِۦٓ أَسْتَخْلِصْهُ لِنَفْسِى ۖ فَلَمَّا كَلَّمَهُۥ قَالَ إِنَّكَ ٱلْيَوْمَ لَدَيْنَا مَكِينٌ أَمِينٌ ﴿٥٤﴾ قَالَ ٱجْعَلْنِى عَلَىٰ خَزَآئِنِ ٱلْأَرْضِ ۖ إِنِّى حَفِيظٌ عَلِيمٌ
“বাদশাহ বললঃ তাকে (হযরত ইউসুফ আ.) আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাকে নিজের বিশ্বস্ত সহচর করে রাখব। অতঃপর যখন তার সাথে মতবিনিময় করল, তখন বললঃ নিশ্চয়ই আপনি আমার কাছে আজ থেকে বিশ্বস্ত হিসাবে মর্যাদার স্থান লাভ করেছেন।
ইউসুফ আ. বললেন,’ আমাকে দেশের ধন-ভান্ডারে নিযুক্ত করুন। আমি বিশ্বস্ত রক্ষক ও অধিক জ্ঞানবান’।” (সুরা ইউসুফ, ১২:৫৪৫৫)

তিনি আ. তো চাইলেই কারাগার থেকে মুক্তির পর ব্যক্তিগত ঈমান আমল করে যেতে পারতেন। তিনি কেন বাদশার কাছে ধন-ভান্ডারের পরিচালক হতে চাইলেন? 
জবাব হচ্ছে ইসলাম চায় মানব জীবনের যাবতীয় দিক ও বিভাগ হতে অনৈসলামকি পরিচালনা পদ্ধতিকে হটিয়ে সেখানে আল্লাহভীরু লোকদের কতৃত্ব স্থাপন করে আল্লাহর দেয়া নিয়ম-কানুন ও আইনের মাধ্যমে জীবনের সকল বিভাগকে পরিচালনা করা।
মানবজীবনে যত দিক ও বিভাগ আছে সবকিছুরই সমাধানই ইসলামে আছে। এটা বিশ্বাস না করলে ঈমানই থাকবেনা। কারণ মনে করা হবে আল্লাহ ঐ বিভাগ সম্পর্কে অজ্ঞ(নাউজুবিল্লাহ)। 

যতদিন রাজনীতি, অর্থনীতি, বিচারালয় ইত্যাদি সকল বিভাগের নেতৃত্ব এক এক করে আল্লাহভীরু, ও ইসলামপন্থী লোকদের হাতে ন্যস্ত হবেনা ততদিন খোদায়ী বিধানের বাস্তবায়নও হবেনা, মানবতা মুক্তিও পাবেনা। বঞ্চিতরা কেঁদেই যাবে পথের ধারে।

তাই ধাপে ধাপে নেতৃত্ব সৎ লোকদের হাতে নিয়ে আসার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেবার চেষ্টা করা হচ্ছে যেমনটা চেষ্টা করেছিলেন হযরত ইউসুফ আ. সহ সকল নবী গণ আ.।

নবীদেরকে প্রেরণ করাই হয়েছে এজন্যে যে তাঁরা মানবজীবনের সকল দিক ও বিভাগ থেকে বাতিলকে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হটিয়ে সেখানে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করবেন যা সকল নবীই পরিপূর্ণভাবে করে যাবার চেষ্টায় রত ছিলেন। অবশ্য সবাই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সফল হননি। সেটা তাদের ব্যার্থতা নয়। তাঁরা দাওয়াত দিলেও মানুষ কবুল না করলে কি আর করা।

এখন নবীদের অবর্তমানে সকল মুসলিমের এটা কর্তব্য যে সে জাহেলি সকল মত ও পথ, তন্ত্র, মন্ত্র মতবাদকে দূরে ঠেলে, অস্বীকার করে আল্লাহর মত ও পথকে বিজয়ী করার চেষ্টা করবে। সামগ্রিকভাবে এ চেষ্টা না করার কারণেই আজ মুসলিম উম্মাহর এ দূরাবস্থা। সকল নেতৃত্বে বসে আছে বাতিল ও মানবরচিত মত ও পথের বাহকরা যেটা ছিল আল্লাহর সতর্কবাণী।
وَإِن تَتَوَلَّوْا۟ يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُونُوٓا۟ أَمْثَـٰلَكُم
“যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, এরপর তারা তোমাদের মত হবে না।” (সুরা মুহাম্মাদ, ৪৭, ৩৮ আয়াতাংশ)

অথচ কিছু গোষ্ঠী আজ মুসলিমদের এ কাজ থেকে দূরে থেকে শুধু ব্যক্তিগত ঈমান আমল হাসিলের দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছে যা প্রকারান্তরে বাতিলকে সহজভাবে বাতিল মতবাদ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে যাচ্ছে।

Advertisements

Share your comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: