Archives

All posts for the month June, 2012

প্রোগ্রামিং এর ধারণা আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে।

Published June 3, 2012 by islamvalley

আমারা প্রায় সবাই কিছুনা কিছু প্রোগ্রামিং জানি এবং এমন কিছু বানাতে পারি যা আমাদের ইচ্ছেমতো চলবে। আমরা যদি একটা সফটওয়্যার বানাই তবে আমাদের নির্ধারিত আদেশ মেনে চলবে। এ সফটওয়্যারগুলো অনেক সময় ব্যাবহারকারিদেরদের কাস্টোমাইজ বা নিজের মতো করে সাজানোর সুবিধা দেয়। যেমন খুব সরল একটা উদাহরণ দিইঅ আমারা পিসিতে একটা ডকুমেন্ট লিখতে পারি। ইচ্ছেমতো এটার রং, ফন্ট, আকার বদলাতে পারি। আমার অনেক সুন্দর-দর্শন একটা ফাইল বানিয়ে ফেলতে পারি। অথবা চাইলে পিডিএফ ফাইলও সুন্দর করে বানাতে পারি। কিন্তু এই বানানোর কৃতিত্বটা কি আমাদের?
মোটেই না। বরং যে লোক ওয়ার্ডফাইল সফটওয়্যার বা পিডিএফ রূপান্তরক বানিয়েছে এটা তারই কৃতিত্ব। এ কারণেই আমাদের ব্যাবহারকরীদের সীমাবদ্ধতা রয়ে যায়। আমরা চাইলেও এমন কাস্টোমাইজ করতে পারবোনা যা সফটওয়্যার এর মূল নির্মাতা সুযোগ করে রাখেনি।

এছাড়া আমরা css, html, php ইত্যাদি ব্যাবহার করে অপূর্ব ওয়েবসাইট বানাতে পারি। কিন্তু এই বানানোর কুতিত্বও আমাদের নয় বরং তাদের যারা এই ভাষাগুলো উদ্ভাবন করেছে।

আমরা দৈনন্দিন অনেক যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করে থাকি যেগুলো আবিষ্কার করেছেন প্রতিভাবান বিজ্ঞানীরা। সেগুলোও আমারা ইচ্ছামতো এদিকসেদিক করে ব্যাবহার করতে পারি। যেমন আমরা একটা টিভি সেটের ভলিউম বাড়াতে-কমাতে পারি। কিন্তু এতদূর বাড়াতে পারিনা যার সুযোগ নির্মাতা রাখেনি। টিভি এখানে তারা নির্মাতার দেয়া নিয়ম মেন চলে।

এখন একটা ভাবা যাক।
যখন একটা টিভি বানানো হলো, এটা কেন টিভি হলো কেন একটা গাড়ি হলোন?
উত্তর হলো ঐ মূল প্রক্রিয়াটাও প্রকৃতির একটা নিয়ম মেনে চলে যা নির্ধারণ করে দিয়েছেন আল্লাহ। মানুষ প্রকৃতির নিয়মকে কাজে লাগিয়ে একটা যন্ত্র বানিয়ে ফেলল। তাই বলে সেটার কৃতিত্ব মানুষের নয় বরং সেই আল্লাহর যাঁর দেওয়া নিয়ম মেনে চলেই তাকে যন্ত্রটা বানাতে হয়েছিল। আর যন্ত্র ঐ নিয়ম মেনে চলে বলেই যখন টিভি হবার উপযোগী প্রক্রিয়া চালানো হলো তখন সেটা টিভিই হলো, গাড়ি হলোনা।

মানুষের তৈরি বিভিন্ন কাস্টোমাইজেবল সফটওয়্যারে যেমন সীমাবদ্ধ কিছু সুবিধা থাকে তেমনি আল্লাহর প্রোগ্রামকৃত এই পুরো মহাবিশ্বের নিয়ম কাজে লাগিয়ে কিছু যন্ত্রপাতি বানানো গেলেও তারও একটা সীমা আছে যা আমরা লংঘন করতে পারিনা।

যেমন আমরা কোন অবিরাম-গতি যন্ত্র বানাতে পারিনা যেটা ইনপুট না নিয়েই অবিরাম আউটপুট দিয়ে যাবে। আমারা জানি মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যাবে। আমারা সেটা ঠেকাতে পারবোন। বিজ্ঞান সেটা স্বীকার করেই ফেলেছে। আমরা জানি মহাবিশ্বের সকল শক্তির পরিমাণ নিদির্ষ্ট ও অপরিবর্তনীয়। শক্তি বাড়ানো, কমানো যায়না। শুধু রূপান্তর করা য়ায় মাত্র।
অর্থ্যাৎ আল্লাহ আমাদের শক্তি রূপান্তর করবার সুবিধা দিয়েছেন কিন্তু বাড়ানো, কমানোর সুবিধা দেননি।

এই যে এতসব এতসব নিয়ম, বিজ্ঞানের ভাষায় এমন অপূর্ব গঠনমূলক বিধি ও নিয়ম আপনাআপনি গড়ে উঠতে পারেনা। প্রকৃতপক্ষে এসব নিয়ম-বিধান আল্লাহই নির্ধারিত (programmed ) করে রেখেছেন।
আল্লাহ আমাদের বোঝার তৌফিক দিন, আমীন।

ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্তির কৌশল

Published June 3, 2012 by binrafiq
ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি অনেককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যখন আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গেই আনন্দিত থাকতে পারেন, তখন কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের স্ক্রিনের সামনে সময় নষ্ট করছেন? এই আর্টিকেলটি আপনাকে ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করবে।
১. যখনই আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন : একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার করুন, কখনোই আজ ২ ঘণ্টা কাল ৩ ঘণ্টা আর পরশু ১ ঘণ্টা করলে চলবে না। অন্যভাবে বলতে গেলে, এমনটি বলবেন না যে, আজকে আমি কেবল ১ ঘণ্টা ইন্টারনেটে কাটাব। তারপর একটানা ৪-৫ ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে মনে মনে বলবেন, আমি আজকে মোটামুটি ভালো করেছি। প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য ১ ঘণ্টা যথেষ্ট, খুব প্রয়োজনে ২ ঘণ্টা ব্যবহার করা যেতে পারে। মনে রাখবেন, এই বিষয়ে সতর্ক না হলে আবারও ইন্টারনেট আসক্তির দাসে পরিণত হতে পারেন।
২. যদি ঘড়ি আপনাকে সময়ের মাঝে বেঁধে রাখতে না পারে : তবে একটি Parental control সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে পারেন, কিছু সফটওয়্যার সময় বেঁধে দেয়া (time lock) সমর্থন করে। আপনার বাসার অন্য কাউকে পাসওয়ার্ডটি সেট করতে বলুন যাতে করে শুধু জরুরি ক্ষেত্রেই আপনি এটিকে আনলক করতে পারেন, যখন ইচ্ছা তখন নয়।
৩. অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টগুলো মুছে ফেলুন : কতগুলো এমন ওয়েবসাইট আছে যাতে আপনার অ্যাকাউন্ট রাখার কোনো দরকারই নেই? ফেসবুক, মাইস্পেস, টুইটার, ইউটিউব কখনও কখনও ফেসবুক বা টুইটার অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হতে পারে এমন বন্ধু বা আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে যারা আমাদের কাছে নেই। তবে ইউটিউব, মাইস্পেস, গুগল প্লাস ইত্যাদি অ্যাকাউন্ট কেবল সময়ের অপচয়ই নয় বরং আসক্তিকরও বটে। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে অনেক আলাপ হয়ে থাকে অপরিচিত লোকজনের সঙ্গে। তারপরও যদি অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে না চান তবে পেজগুলো ব্লক করে দিন।
৪. আপনার পেজগুলোও মুছে ফেলুন : শুধু সেই পেজগুলোই রাখুন যা আপনার কাজের জন্য দরকার (hgbÑhomework, office work েইত্যাদি)। যদি ইউটিউব বা অন্যান্য অ্যাকাউন্ট এগুলোর জন্য নিতান্তই প্রয়োজনীয় না হয় তবে মুছে ফেলতে দ্বিধা বোধ করবেন না।
৫. অনলাইন কাজ ছাগা অনেকগুলো অফলাইন কাজ রাখতে ভুলবেন না : আপনি যাতে আনন্দ পান এমন অনেক কাজ করুন। যদি আপনার কোনো শখ না থাকে তাহলে আজই খুঁজতে শুরু করুন। এছাড়া অন্যকে সাহায্য করা বা সমস্যার সমাধান দেয়া একটা অন্যতম উপায়। এটা আপনার মানসিক ও শারীরিক উভয় দিকের খেয়াল রাখে।
৬. অনলাইন বা অফলাইনে থাকা সম্পর্কে সচেতন থাকুন : আপনি কি বুঝতে পারেন না যে কখন আপনি অতিরিক্ত অনলাইনে সময় কাটাচ্ছেন? যদি তাই হয়, আপনার সমস্যা আছে!
৭. আপনি জানেন যে ইন্টারনেট আসক্তি আপনার বাস্তবিক জীবনে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে : আপনাকে আপনার জীবনযাপন করতে হবে পুরোপুরিভাবে, কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে থেকে নয়। বিশ্বাস করতে পারেন যে প্রতিদিন ১,০০০,০০০,০০০ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তথ্যটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। আর গবেষক এবং ডাক্তাররা দেখিয়েছেন, কীভাবে প্রতিদিন মানুষ এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
৮. তাই ইন্টারনেটকে আপনার জীবনে হস্তক্ষেপ করতে দেয়া বন্ধ করুন : এমন নয় যে আপনি পুরোপুরিভাবে একে ত্যাগ করবেন বা আর কোনোদিন ব্যবহার করবেন না, আপনাকে শুধু দেখতে হবে সঠিক সময়টি। জীবনের পূর্ণতাকে অনুভব করুন। বাইরে যান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, আশপাশে ঘুরতে যান এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যকে উপভোগ করুন। যা আপনার দৈহিক ও মানসিক উভয় দিক দিয়ে সাহায্য করবে।
৯. আপনি এখন তৈরি! আপনার নিত্যদিনের কাজ করুন সতেজতার সঙ্গে। তবে অবশ্যই ইলেকট্রনিক ডিভাইস তথা ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকবেন।
সূত্র: আমারদেশ

হযরত ইউসুফ আ. ও কি তাহলে দুনিয়াপূজারী ছিলেন?(নাউজুবিল্লাহ)

Published June 3, 2012 by islamvalley

বর্তমানে অনেক মুসলিম ভাইকে বলতে শোনা যায় জামায়াতে ইসলামী ইসলামের নাম করে দুনিয়াবী স্বার্থ হাসিলের ধান্দায় আছে। (আর এ জন্যেই বিএনপির সাথে ঐক্য করে মন্ত্রণালয়ের ভার নিয়েছে।) তা না হলে ইসলামে রাজনীতি, বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ ইত্যাদির কী দরকার? মুসলিমদের ওসব যামেলায় না গিয়ে ব্যক্তিগত ধর্মকর্ম নিয়ে ব্যাস্ত থাকা উচিত।
এর জবাব আমার আমার আবিষ্কার করতে হয়নি। কুরআনই মুমিনের কর্মপন্থা বলে দিচ্ছে। দেখুন সুরা ইউসুফ।
وَقَالَ ٱلْمَلِكُ ٱئْتُونِى بِهِۦٓ أَسْتَخْلِصْهُ لِنَفْسِى ۖ فَلَمَّا كَلَّمَهُۥ قَالَ إِنَّكَ ٱلْيَوْمَ لَدَيْنَا مَكِينٌ أَمِينٌ ﴿٥٤﴾ قَالَ ٱجْعَلْنِى عَلَىٰ خَزَآئِنِ ٱلْأَرْضِ ۖ إِنِّى حَفِيظٌ عَلِيمٌ
“বাদশাহ বললঃ তাকে (হযরত ইউসুফ আ.) আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাকে নিজের বিশ্বস্ত সহচর করে রাখব। অতঃপর যখন তার সাথে মতবিনিময় করল, তখন বললঃ নিশ্চয়ই আপনি আমার কাছে আজ থেকে বিশ্বস্ত হিসাবে মর্যাদার স্থান লাভ করেছেন।
ইউসুফ আ. বললেন,’ আমাকে দেশের ধন-ভান্ডারে নিযুক্ত করুন। আমি বিশ্বস্ত রক্ষক ও অধিক জ্ঞানবান’।” (সুরা ইউসুফ, ১২:৫৪৫৫)

তিনি আ. তো চাইলেই কারাগার থেকে মুক্তির পর ব্যক্তিগত ঈমান আমল করে যেতে পারতেন। তিনি কেন বাদশার কাছে ধন-ভান্ডারের পরিচালক হতে চাইলেন? 
জবাব হচ্ছে ইসলাম চায় মানব জীবনের যাবতীয় দিক ও বিভাগ হতে অনৈসলামকি পরিচালনা পদ্ধতিকে হটিয়ে সেখানে আল্লাহভীরু লোকদের কতৃত্ব স্থাপন করে আল্লাহর দেয়া নিয়ম-কানুন ও আইনের মাধ্যমে জীবনের সকল বিভাগকে পরিচালনা করা।
মানবজীবনে যত দিক ও বিভাগ আছে সবকিছুরই সমাধানই ইসলামে আছে। এটা বিশ্বাস না করলে ঈমানই থাকবেনা। কারণ মনে করা হবে আল্লাহ ঐ বিভাগ সম্পর্কে অজ্ঞ(নাউজুবিল্লাহ)। 

যতদিন রাজনীতি, অর্থনীতি, বিচারালয় ইত্যাদি সকল বিভাগের নেতৃত্ব এক এক করে আল্লাহভীরু, ও ইসলামপন্থী লোকদের হাতে ন্যস্ত হবেনা ততদিন খোদায়ী বিধানের বাস্তবায়নও হবেনা, মানবতা মুক্তিও পাবেনা। বঞ্চিতরা কেঁদেই যাবে পথের ধারে।

তাই ধাপে ধাপে নেতৃত্ব সৎ লোকদের হাতে নিয়ে আসার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেবার চেষ্টা করা হচ্ছে যেমনটা চেষ্টা করেছিলেন হযরত ইউসুফ আ. সহ সকল নবী গণ আ.।

নবীদেরকে প্রেরণ করাই হয়েছে এজন্যে যে তাঁরা মানবজীবনের সকল দিক ও বিভাগ থেকে বাতিলকে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হটিয়ে সেখানে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করবেন যা সকল নবীই পরিপূর্ণভাবে করে যাবার চেষ্টায় রত ছিলেন। অবশ্য সবাই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সফল হননি। সেটা তাদের ব্যার্থতা নয়। তাঁরা দাওয়াত দিলেও মানুষ কবুল না করলে কি আর করা।

এখন নবীদের অবর্তমানে সকল মুসলিমের এটা কর্তব্য যে সে জাহেলি সকল মত ও পথ, তন্ত্র, মন্ত্র মতবাদকে দূরে ঠেলে, অস্বীকার করে আল্লাহর মত ও পথকে বিজয়ী করার চেষ্টা করবে। সামগ্রিকভাবে এ চেষ্টা না করার কারণেই আজ মুসলিম উম্মাহর এ দূরাবস্থা। সকল নেতৃত্বে বসে আছে বাতিল ও মানবরচিত মত ও পথের বাহকরা যেটা ছিল আল্লাহর সতর্কবাণী।
وَإِن تَتَوَلَّوْا۟ يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُونُوٓا۟ أَمْثَـٰلَكُم
“যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, এরপর তারা তোমাদের মত হবে না।” (সুরা মুহাম্মাদ, ৪৭, ৩৮ আয়াতাংশ)

অথচ কিছু গোষ্ঠী আজ মুসলিমদের এ কাজ থেকে দূরে থেকে শুধু ব্যক্তিগত ঈমান আমল হাসিলের দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছে যা প্রকারান্তরে বাতিলকে সহজভাবে বাতিল মতবাদ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে যাচ্ছে।